অ্যাপল আপগ্রেড: মাসিক কিস্তিতে এখন আইফোন, ম্যাক, আইপ্যাড ও অ্যাপল ওয়াচ ব্যবহারের নতুন সুযোগ
-
by Sumon9092
- 37
আইফোন বা ম্যাকের মতো প্রিমিয়াম ডিভাইস কেনার জন্য একবারে বড় অঙ্কের টাকা খরচ করার দিন হয়তো ধীরে ধীরে শেষ হতে চলেছে। প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল (Apple) গ্রাহকদের জন্য চালু করেছে ‘অ্যাপল আপগ্রেড’ (Apple Upgrade) নামের এক নতুন লিজিং বা ভাড়াভিত্তিক কর্মসূচি। এই উদ্যোগের মাধ্যমে নির্দিষ্ট মাসিক কিস্তি পরিশোধ করে আইফোন, ম্যাক, আইপ্যাড ও অ্যাপল ওয়াচ ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছেন গ্রাহকরা।
কী এই ‘অ্যাপল আপগ্রেড’?
অ্যাপল আপগ্রেড মূলত একটি লিজিং প্রোগ্রাম—যেখানে গ্রাহক ডিভাইসটি সরাসরি কিনছেন না, বরং নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তা ব্যবহারের অধিকার পাচ্ছেন। ২০২৬ সালের ২৮ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রে এই সেবা চালু করা হয়। প্রাথমিকভাবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাপল স্টোর, অ্যাপলের অনলাইন স্টোর এবং অ্যাপল স্টোর অ্যাপের মাধ্যমে পাওয়া যাচ্ছে।
অ্যাপলের অর্থনৈতিক অংশীদার হিসেবে কাজ করছে সুইডেনভিত্তিক ফিনটেক প্রতিষ্ঠান Klarna। ক্লারনা আইনগতভাবে লিজের মেয়াদে ডিভাইসটির মালিক থাকে।
কীভাবে কাজ করে এই কর্মসূচি?
গ্রাহক প্রথমে একটি যোগ্য ডিভাইস নির্বাচন করেন। এরপর ক্লারনার মাধ্যমে একটি ক্রেডিট অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়—যেখানে সফট ক্রেডিট চেক করা হয়, যা ক্রেডিট স্কোরকে প্রভাবিত করে না। অনুমোদন পাওয়ার পর নির্দিষ্ট লিজ মেয়াদের জন্য মাসিক কিস্তি পরিশোধ শুরু করেন।
লিজের মেয়াদ শেষে গ্রাহকের তিনটি অপশন থাকে:
১. আপগ্রেড—সর্বশেষ মডেলে পরিবর্তন করা
২. ক্রয়—এককালীন অর্থ দিয়ে ডিভাইসটি নিজের করে নেওয়া
৩. ফেরত—ডিভাইসটি ফেরত দিয়ে কর্মসূচি থেকে বেরিয়ে যাওয়া
কোন ডিভাইসগুলো অন্তর্ভুক্ত?
এই কর্মসূচির আওতায় অ্যাপলের সর্বশেষ ও প্রিমিয়াম ডিভাইসগুলো রাখা হয়েছে:
আইফোন সিরিজ (১২ বা ২৪ মাস): iPhone 17e, iPhone 17, iPhone Air, iPhone 17 Pro, iPhone 17 Pro Max
অ্যাপল ওয়াচ (১২ বা ২৪ মাস): Apple Watch Series 11, Apple Watch Ultra 3
আইপ্যাড (২৪ বা ৩৬ মাস): iPad mini, iPad Air, iPad Pro
ম্যাক (২৪ বা ৩৬ মাস): MacBook Air, MacBook Pro, iMac, Mac Studio
তবে তুলনামূলক কম দামের কিছু মডেল—যেমন iPhone 16, MacBook Neo, বেস মডেলের iPad এবং Apple Watch SE—এই কর্মসূচির আওতায় রাখা হয়নি।
মাসিক কিস্তি কত?
অ্যাপল আপগ্রেডের মাসিক কিস্তি শুরু হচ্ছে মাত্র ১৭.৯৯ মার্কিন ডলার থেকে। বিভিন্ন ডিভাইসের জন্য ২৪ মাসের লিজ মূল্য নিচে দেওয়া হলো:
| ডিভাইস | মাসিক কিস্তি (২৪ মাস) |
|---|---|
| iPhone 17e | $১৭.৯৯ |
| iPhone 17 | $২২.৯৯ |
| iPhone Air | $২৮.৯৯ |
| iPhone 17 Pro | $৩১.৯৯ |
| iPhone 17 Pro Max | $৩৪.৯৯ |
| Apple Watch Series 11 | $১১.৯৯ |
| Apple Watch Ultra 3 | $২৪.৯৯ |
| iPad mini | $১১.৯৯ |
| iPad Air | $১৫.৯৯ |
| MacBook Air | $২৪.৯৯ |
গ্রাহকরা নিজেদের পুরোনো ডিভাইস Apple Trade In-এর মাধ্যমে বিনিময় করলে মাসিক কিস্তি আরও কমাতে পারেন। এছাড়া Apple Card দিয়ে কিস্তি পরিশোধ করলে ৩ শতাংশ ডেইলি ক্যাশব্যাক পাওয়া যায়।
পুরোনো ‘আইফোন আপগ্রেড প্রোগ্রাম’-এর কী হলো?
অ্যাপল আপগ্রেড চালুর সঙ্গে সঙ্গেই যুক্তরাষ্ট্রে আইফোন আপগ্রেড প্রোগ্রাম (iPhone Upgrade Program) এবং আইফোন পেমেন্টস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ২০১৫ সালে আইফোন ৬এস-এর সময় থেকে চালু এই প্রোগ্রামটি এখন ইতিহাস।
মূল পার্থক্যটি হলো—পুরোনো প্রোগ্রাম ছিল কিস্তিতে কেনার ব্যবস্থা, যেখানে গ্রাহক ডিভাইসটির মালিক হতেন। অন্যদিকে নতুন অ্যাপল আপগ্রেড是 লিজ ভিত্তিক—ক্লারনা ডিভাইসটির মালিক, আর গ্রাহক ব্যবহারের জন্য মাসিক অর্থ প্রদান করেন।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো—পুরোনো প্রোগ্রামে AppleCare+ অন্তর্ভুক্ত ছিল। নতুন কর্মসূচিতে AppleCare+ পৃথক অ্যাড-অন হিসেবে নিতে হবে।
কেন এই উদ্যোগ?
বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইডিসি-এর বিশ্লেষক ফ্রান্সিসকো জেরোনিমোর মতে, এই উদ্যোগ অ্যাপলের ব্যবসায়িক কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন অনেক ব্যবহারকারী আগের তুলনায় দীর্ঘ সময় একই স্মার্টফোন ব্যবহার করেন। ফলে এককালীন ডিভাইস বিক্রির পরিবর্তে সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক বা মাসিক অর্থপ্রদানের মডেল অ্যাপলের জন্য আরও কার্যকর হতে পারে।
বিশ্বজুড়ে ডেটা সেন্টারের চাহিদা বাড়ায় মেমোরি চিপের বাজারে চাপ তৈরি হচ্ছে। টেক ইনসাইটসের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক হাওয়ার্ডের মতে, আগামী প্রজন্মের কিছু আইফোনের মূল্য ১,৫০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধির আগে গ্রাহকদের জন্য সহজ কিস্তিতে ডিভাইস ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করে বাজারে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে চায় অ্যাপল।
কার জন্য এই সুবিধা?
বর্তমানে এই কর্মসূচি শুধু যুক্তরাষ্ট্রের গ্রাহকদের জন্য। যোগ্য হতে হলে:
- যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা হতে হবে
- বৈধ মার্কিন ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ড থাকতে হবে
- সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর থাকতে হবে
- ক্লারনা অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে
ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কেনাকাটা এই সুবিধার বাইরে থাকবে।
সতর্কতা
লিজের মেয়াদ শেষে ডিভাইস ভালো অবস্থায় ফেরত দিতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত ডিভাইস বা কিস্তি না পরিশোধ করলে অতিরিক্ত চার্জ দিতে হবে। এছাড়া লিজের মেয়াদের আগেই ডিভাইসটি ক্রয় করতে চাইলে অতিরিক্ত ফি দিতে হবে।
সারসংক্ষেপ
অ্যাপল আপগ্রেড অ্যাপলের ডিভাইস কেনার ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে। মাসিক কিস্তিতে প্রিমিয়াম ডিভাইস ব্যবহারের এই সুযোগ গ্রাহকদের জন্য যেমন অর্থনৈতিক স্বস্তি বয়ে এনেছে, তেমনি অ্যাপলের জন্যও এটি একটি নতুন ব্যবসায়িক দিশা। যদিও বর্তমানে এটি শুধু যুক্তরাষ্ট্রে সীমাবদ্ধ, ভবিষ্যতে অন্যান্য দেশেও এর সম্প্রসারণ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আইফোন বা ম্যাকের মতো প্রিমিয়াম ডিভাইস কেনার জন্য একবারে বড় অঙ্কের টাকা খরচ করার দিন হয়তো ধীরে ধীরে শেষ হতে চলেছে। প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল (Apple) গ্রাহকদের জন্য চালু করেছে ‘অ্যাপল আপগ্রেড’ (Apple Upgrade) নামের এক নতুন লিজিং বা ভাড়াভিত্তিক কর্মসূচি। এই উদ্যোগের মাধ্যমে নির্দিষ্ট মাসিক কিস্তি পরিশোধ করে আইফোন, ম্যাক, আইপ্যাড ও অ্যাপল ওয়াচ ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছেন…
আইফোন বা ম্যাকের মতো প্রিমিয়াম ডিভাইস কেনার জন্য একবারে বড় অঙ্কের টাকা খরচ করার দিন হয়তো ধীরে ধীরে শেষ হতে চলেছে। প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল (Apple) গ্রাহকদের জন্য চালু করেছে ‘অ্যাপল আপগ্রেড’ (Apple Upgrade) নামের এক নতুন লিজিং বা ভাড়াভিত্তিক কর্মসূচি। এই উদ্যোগের মাধ্যমে নির্দিষ্ট মাসিক কিস্তি পরিশোধ করে আইফোন, ম্যাক, আইপ্যাড ও অ্যাপল ওয়াচ ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছেন…